খিদে না থাকা বা appetite loss এমন একটি সমস্যা যা অনেকেই অবহেলা করে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যদি খিদে না লাগে, তাহলে এটি শরীরের কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
![]() |
| খিদে না লাগা শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত |
সাধারণত আমাদের শরীর যখন শক্তির প্রয়োজন হয়, তখন খিদে লাগে। কিন্তু যদি সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়, তাহলে সেটি চিন্তার বিষয়।
আপনি দেখবেন যখন এই অবস্থায় পতিত হন তখন ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায় খেতে ইচ্ছে করে না । কিংবা খিদে নেই বা পেট ভরা । মনে হয় কিছুক্ষণ আগে খেলেন । অবশ্য যারা ভুগছেন তারা যদি এখন খান পরে খিদে বহু ঘন্টা পরে নাও লাগতে পারে। আর এ অবস্থা অনেক দিন যাবৎ থাকলে তাকে ক্ষুধাহীনতা বলে ।
লক্ষণ
কিছু লক্ষণ তো আছেই । তার মধ্যে এগুলো অন্যতম ।
১. খাবারে অনাগ্রহ
২. খাবার দেখলে বমি বমি ভাব
৩. খিদে না থাকা
৪.ওজন কমে যাওয়া
৫. কোন মতে খাওয়ার পরেও বমি আসা
৬. দীর্ঘ দিন যাবৎ হলে মাথা ঘোরা ও দুর্বল অনুভব
খাদে না লাগার কারণ কি ?
খিদে না লাগার বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা যায় । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:-
খিদে না লাগার প্রধান কারণ
১. হজমের সমস্যা
গ্যাস্ট্রিক, এসিডিটি বা বদহজমের কারণে অনেক সময় খিদে কমে যায়।
২. মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশন
অতিরিক্ত চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা ডিপ্রেশন থাকলে appetite কমে যায়।
৩. লিভারের সমস্যা
লিভার ঠিকমতো কাজ না করলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
৪. সংক্রমণ বা অসুস্থতা
জ্বর, ভাইরাস বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে খিদে কমে যায়।
৫. হরমোনের সমস্যা
থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসের কারণে খিদে কমে যেতে পারে।
৬.গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় অনেকেরই ক্ষুধা কমে যায় । আবার অনেকের খাবার প্রতি আসক্তি থাকে না ।
৭. মদ্যপান ও মাদক ছেড়ে দেয়া
মদ্যপান ও মাদক ছেড়ে দিলে সাময়িক ভাবে খিদে কমে যেতে পারে । এটা শুনে আবার মদ্যপান শুরু করে দিয়েন না । কারণ এতে আপনার নেশা থেকে শরীর মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । আপনাকে ভালোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
৮. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ক্ষেত্রে ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে খিদে নাও পেতে পারেন ।
খিদে না থাকার ঝুঁকি
শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে
ওজন কমে যায়
পুষ্টির অভাব দেখা দেয়
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
আপনার করণীয় কি ?
করণীয় :
১. সর্বপ্রথম চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে । তার দেয়া রুলস অনুযায়ী কাজ করতে হবে ।
২. শারীরিক কিছু পরীক্ষা করা যেতে পারে।
৩. পেটের পরীক্ষা (সিটি স্ক্যান)
৪. খুধা বৃদ্ধির কিছু কৌশল ডাক্তার বলে দেবেন । একবারে বেশি না খেয়ে দিনে ৪-৫ বার অল্প অল্প করে খান তবে সেটা ডাক্তারের পরামর্শে ।
৫. ব্যায়াম আবশ্যক ।
৬. খাওয়ার আগে সামান্য আদা বা লেবু খেলে appetite বাড়ে।
৭. ফল, সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন:
১ সপ্তাহের বেশি খিদে না লাগা
দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
বমি বা বমি ভাব
অতিরিক্ত দুর্বলতা
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ( FAQ )
১.খিদে না লাগা কি বিপজ্জনক?
হালকা হলে সমস্যা নেই, কিন্তু দীর্ঘদিন থাকলে এটি গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।
২.খিদে না লাগলে কি খাওয়া উচিত?
হালকা, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।
৩.কেন হঠাৎ খিদে কমে যায়?
স্ট্রেস, অসুস্থতা বা হজমের সমস্যার কারণে
হঠাৎ খিদে কমে যেতে পারে।
৪.খিদে বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায় কি?
আদা, লেবু, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস খিদে বাড়াতে সাহায্য করে।
