পিত্তথলিতে পাথর হলে যেসব উপসর্গ দেখা যায় ।

পিত্তথলি আমাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।আমরা যে খাবার খাই তা যে হজম হয় তার পেছনে এই পিত্তথলির অবদান রয়েছে। আজকের আলোচনায় জানাবো কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে আপনি বুঝবেন আপনার পিত্তথলিতে পাথর দেখা দিয়েছে।


Gallstones,পিত্তথলিতে পাথর হলে দেখা যায় এমন সাধারণ উপসর্গ যেমন ডান পেট ব্যথা, বমি ভাব ও হজমের সমস্যা
পিত্তথলিতে পাথর 




পিত্তথলিতে পাথর (Gallstone) আমাদের দেশে একটি সাধারণ সমস্যা। অনেকেই পেট ব্যথা হলে এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক ভাবেন, কিন্তু অনেক সময় তা পিত্তথলির পাথরের কারণে হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে শনাক্ত না হলে এ সমস্যা জটিল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, তাই উপসর্গগুলো আগে থেকে জানা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।



পিত্তথলির কাজ কী?

পিত্তথলি হলো যকৃতের নিচে অবস্থিত একটি ছোট থলি, যেখানে যকৃত থেকে উৎপন্ন পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস আমাদের শরীরে খাবার বিশেষ করে চর্বি হজমে সাহায্য করে। কোনো কারণে পিত্তরস ঘন হয়ে গেলে সেখানেই পাথর তৈরি হতে শুরু করে — একে বলে গলস্টোন।

 



তবে তার আগে জানি পিত্তথলিতে পাথর হয় কেন ?


মূলত যে কারণ রয়েছে তার মধ্যে এগুলো:-


১.কোলেস্টেরল বাড়লে


২. বিলিরুবিন অত্যধিক মাত্রায় দেখা দিলে ।




এবার‌ আসেন উপসর্গগুলো জেনে নিই।


১. ডান পাশে তীব্র পেট ব্যথা

সাধারণত ডান পাশের পাঁজরের নিচের দিকে ব্যথা হয়, যা পিঠ বা কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। খাবার বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাদ্যের ফলে পেটে ব্যথা হওয়া




২.জ্বর ও ঠান্ডা লাগা

পিত্তথলির পাথর ইনফেকশন তৈরি করলে শরীর গরম হয়ে জ্বর আসতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শীত শীত ভাবও থাকে। কেঁপে কেঁপে জ্বর আসে 




৩. বমি বমি ভাব বা বমি

আবার জ্বর তো আছেই সেই‌সাথে বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া । অনেক সময় খাবারের পরপরই বমি হতে পারে। 



৪.চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

পিত্তথলির নালিতে পাথর আটকে গেলে পিত্তরস শরীরে ফিরে আসে এবং জন্ডিসের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এটি জটিল পরিস্থিতির ইঙ্গিত।



৫.মল ও প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন

মল ফ্যাকাশে বা সাদা হয়ে যেতে পারে এবং প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয়। এতে বোঝা যায় পিত্ত প্রবাহ স্বাভাবিক নেই।


উপরোক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে অতিসত্বর ডাক্তার দেখাতে হবে ।



কখন পিত্তথলিতে পাথর বেশি ঝুঁকি তৈরি করে?

কিছু অবস্থায় উপসর্গগুলো আরও তীব্র হতে পারে, যেমন—


ইনফেকশন হলে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা



বমির সঙ্গে পিত্ত বা রক্ত বের হওয়া


এমন পরিস্থিতিতে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।



কারা বেশি ঝুঁকিতে?


নারী ও পুরুষ বিশেষত ৪০ বছরের পর 


ওজন বেশি যাদের


গর্ভবতী নারী


ডায়াবেটিস বা লিভারের রোগী


তেল–চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খান


যারা কায়িক পরিশ্রম না করেন 




পিত্তথলির পাথর কী ভাবে বোঝা যায়?

ডাক্তার সাধারণত আল্ট্রাসনোগ্রাফি দিয়ে চেক করেন। অনেক সময় রক্ত পরীক্ষা, সিটি স্ক্যান বা এমআরসিপি করতে হতে পারে। উপসর্গ থাকলে দেরি না করে পরীক্ষা করা জরুরি।




কখন ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের কোনটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন—


ব্যথা ৬ ঘণ্টার বেশি থাকে


বমি থামছে না


ত্বক/চোখ হলুদ হওয়া


শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া



পিত্তথলিতে পাথর অনেক সময় নীরবে তৈরি হয় এবং হঠাৎ তীব্র উপসর্গ নিয়ে প্রকাশ পায়। তাই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পেটের ডান পাশে ব্যথা, বমি, হজমে সমস্যা, জন্ডিস ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত এবং সময়মতো আল্ট্রাসনো করে নিশ্চিত হওয়া দরকার। সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাপনবিধি মানলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়।



প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

Q1: পিত্তথলির পাথর কি ওষুধে পুরোপুরি সেরে যায়?

সব ক্ষেত্রে নয়। ছোট পাথর কিছু ওষুধে গলতে পারে, তবে বেশিরভাগ সময় সার্জারি লাগে।


Q2: পিত্তথলি অপসারণ করলে কি জীবনযাপন বদলে যায়?

বেশিরভাগ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। শুধু খাবারে কিছু নিয়ন্ত্রণ দরকার হয়।


Q3: পাথর থাকলেও যদি উপসর্গ না থাকে তবে কি অপারেশন জরুরি?

না, সবসময় নয়। তবে ডাক্তার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ রাখতে বলবেন।


Q4: পিত্তথলিতে পাথর প্রতিরোধ করা যায় কিভাবে?

সুষম খাদ্য, কম তেল–চর্বি, নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন স্বাভাবিক রাখলে ঝুঁকি কমে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম