মানুষ জন কত রোগেই না ভোগেন । তার মধ্যে আলসার অন্যতম একটি রোগ ।এ রোগে অনেকেই ভোগেন। কিন্তু জানেন কি কোন কোন কারণে পেটের আলসার হতে পারে । তাহলে চলুন জেনে নিই কারণ গুলো।
![]() |
| Healthy & unhealthy stomach এর পার্থক্য দেখানো হয়েছে |
১. ঝাল খাবার খাওয়া
আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ঝালযুক্ত খাবার বেশি খান তাহলে পেটে আলসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেননা ঝাল ,মশলা এগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয়।
২. হরমোন সমস্যা
আলসার হওয়ার জন্য হরমোন সমস্যা একটি বড় সমস্যা। যাদের শরীরে স্টেরয়েড হরমোন বেশি হয় তাদের আলসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সাবধান
৩. ব্যথার ঔষধ
আপনি যদি ব্যথার ঔষধ সেবন করে থাকেন তাহলে ধরে নেন আপনি এক সময় আলসারে আক্রান্ত হবেন। একটু ব্যথা হলেই ব্যথার ঔষধ খাবেন তাতে সমস্যা বাড়বে তাই ব্যথার ঔষধ সেবনে দূরে থাকুন।
৪. ধুমপান
এমন কোন মানুষ আছে যারা না জানেন ধূমপান স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর ? আমরা এটাও জানি ধুমপান,তামাক শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর । আর এই তামাক , ধূমপানের ফলে পেটে আলসার দেখা দেয় । ধূমপায়ীরা ধরে নিতে পারেন তাদের আলসার হওয়ার ঝুঁকি আছে ।
৫. ইনফেকশন
ইনফেকশন কি আমরা তা অনেকেই জানি। পেটে এইচ পাইলোরি (H Pylori) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে ক্ষত তৈরি হয় । আর সমস্যাটা সেখান থেকেই। তাই যত দ্রুত পারেন ইনফেকশনকে সারিয়ে তুলুন ।
আলসার প্রতিরোধে করণীয় কি ?
করণীয়:
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
অতিরিক্ত ঝাল-মশলা, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা
ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা
দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়া
মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ
গুরুত্বপূর্ণ FAQ
প্রশ্ন ১: পেটের আলসার কি পুরোপুরি সারানো যায়?
হ্যাঁ, সঠিক ওষুধ ও জীবনযাপন পরিবর্তনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলসার পুরোপুরি সেরে যায়।
প্রশ্ন ২: শুধুমাত্র ঝাল খাবার খাওয়ার কারণে কি আলসার হয়?
ঝাল খাবার সরাসরি আলসারের কারণ না । প্রধান কারণ কি তা আলোচনা করেছি।
প্রশ্ন ৩: আলসার হলে কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত?
হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, সেদ্ধ সবজি, দুধ, কলা, ওটস ইত্যাদি খাওয়া ভালো।
প্রশ্ন ৪: আলসার কি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে?
কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী আলসার, বিশেষ করে H. pylori সংক্রমণ থাকলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রশ্ন ৫: আলসার হলে কি সবসময় অপারেশন করতে হয়?
না, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধেই আলসার ভালো হয়। তবে জটিল অবস্থা হলে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
