ত্বক শরীরের সৌন্দর্যের এক অপরিহার্য অংশ । মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম একটি অংশ। আর এই অংশকে কে না চায় যত্ন করতে । আপনিও চান আপনার ত্বক ভালো থাকুন । তাহলে ত্বককে ঠিক রাখার জন্য আপনি কি করতে পারেন ।
![]() |
| নিয়মিত যত্ন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসেই সম্ভব সুস্থ, উজ্জ্বল ত্বক। |
ত্বকের যত্ন নেয়া কতটা যে গুরুত্বপূর্ণ প্রথমেই চলুন তা দেখে আসি ।
কেন ত্বকের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ ?
সুস্থ ত্বক বজায় রাখা
আপনি যদি নিয়মিত ত্বকের সঠিক যত্ন করেন তাহলে আপনার ত্বক থাকবে মসৃণ ও দাগমুক্ত।
অকাল বার্ধক্য রোধ
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অকাল বার্ধক্য রোধে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
পরিচর্যার মাধ্যমে ত্বক পায় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। যারা নিয়মিত পরিচর্যা করেন তারা এই বিষয়টা জানেন ।
ত্বকের রোগ প্রতিরোধ
ব্রণ, একজিমা বা অ্যালার্জির এছাড়াও ত্বকের আরো কিছু রোগ রয়েছে সেগুলোর ঝুঁকি কমে।
কিভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন ?
যেভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন নিচে তা উল্লেখ করা হল
১. সারাদিনের ধুলো ময়লা পরিষ্কার করে নিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে ধুয়ে নিন । জেল বেসড ক্লিনার ব্যবহার করুন । এক্ষেত্রে ব্যবহার করার সময় ম্যাসাজ করতে হবে ।
২. এরপর মুছে ফেলুন যাতে করে আপনি টোনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে লক্ষ রাখতে হবে ব্যবহারের সময় কটন প্যাড ব্যবহার করতে হবে। আর টোনারের কার্যকারিতা ও উপকারিতা কি তা সকলেই জানেন । নতুন করে বলার কিছু নেই।
৩. শুধু এইটুকু করলেই হবে না , আপনাকে রাতে শুয়ে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে । এক কথায় রাত জাগা বন্ধ করুন । কেননা রাত জাগলে সেটা ত্বকের উপর প্রভাব পড়ে ।
এছাড়াও যা করতে পারেন:
১.সানস্ক্রিন
প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত, এমনকি যখন বাইরে বের হন না তখনও। সানস্ক্রিন ত্বককে ক্ষতিকর সূর্যের রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং বয়সের ছাপ পড়া থেকে বিরত রাখে।
ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন।
৫.পর্যাপ্ত পানি পান
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত, কারণ পানি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
৬.সুষম খাদ্য গ্রহণ
ত্বকের জন্য ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ভালো। ফল, সবজি, বাদাম, এবং ফ্যাটি ফিশ খেলে ত্বক সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর থাকে।
৭.পর্যাপ্ত ঘুম
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। ঘুমের মাধ্যমে ত্বক পুনরুজ্জীবিত হয় এবং চোখের নিচের কালো দাগ কমে।
৮.স্ক্রাবিং
সপ্তাহে ১-২ বার ত্বক স্ক্রাব করা উচিত। স্ক্রাব ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে দেয় এবং ত্বককে মসৃণ করে।
৯.স্ট্রেস কমানো
স্ট্রেস ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।
১০.সাপ্তাহিক ফেস মাস্ক
সপ্তাহে একবার ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী হাইড্রেটিং, ক্লিনজিং, বা পোর রিফাইনিং মাস্ক ব্যবহার করা ভালো।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া কেন জরুরি?
অনেক সময় ঘরোয়া বা বাজারের প্রসাধনী দিয়ে সমাধান মেলে না। একজিমা, তীব্র ব্রণ বা অ্যালার্জি হলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বকের যত্নে করণীয় ও বর্জনীয়
✅ করণীয়
তেল-মশলাযুক্ত খাবার কম খাওয়া।
নরম কাপড় দিয়ে মুখ মুছা।
সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার।
❌ বর্জনীয়
অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহার করা।
ময়লা হাতে মুখ ঘষা।
অযথা প্রসাধনী পরিবর্তন করা।
ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ।
ত্বকের যত্ন শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তিই হলো সুস্থ ত্বক ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার মূল উপায়। মনে রাখতে হবে, নিয়মিত পরিচর্যা ছাড়া ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব নয়।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: কত ঘনঘন স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত?
সপ্তাহে ১–২ বার যথেষ্ট। বেশি করলে ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন ২: শুধুমাত্র প্রসাধনী ব্যবহার করলেই কি ত্বক সুন্দর হয়?
না। ভেতরের পুষ্টি ও পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া প্রসাধনী কার্যকর হয় না।
প্রশ্ন ৩: তৈলাক্ত ত্বকে কি ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন?
অবশ্যই। তবে অয়েল-ফ্রি বা জেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ন ৪: গরমে দিনে কতবার মুখ ধোয়া উচিত?
প্রশ্ন ৫: ডার্ক সার্কেল দূর করার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং শসার পেস্ট বা ঠান্ডা টি-ব্যাগ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৬: শুধু পানি পান করলেই কি উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া সম্ভব?
পানি ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, তবে স্বাস্থ্যকর খাবার ও সঠিক পরিচর্যাও জরুরি।
প্রশ্ন ৭: প্রতিদিন ফেসপ্যাক ব্যবহার করা কি ঠিক?
না। প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। সপ্তাহে ২-৩ বার যথেষ্ট।
