একটি ছেলে ও একটি মেয়ের বিবাহের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাদের বৈবাহিক জীবন।আর এ বৈবাহিক জীবনে থাকে কত স্বপ্ন কত আশা । সবচেয়ে বড় আশা ও পাওয়া হল সন্তান, তাই ছেলে হউক বা মেয়ে ।মা হওয়া প্রত্যেক নারীর জীবনের এক স্বপ্নময় অধ্যায়। বাবা মায়ের কাছে কারো থেকে কারো অংশ কম নয় ।তবে সুস্থ সন্তান এবং মায়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে কিছু অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো কোন মেয়ে মা হতে চাইলে তাকে কি কি অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে । প্রথম কথা হচ্ছে বিবাহিত মেয়েদের বলছি যে আপনারাতো মা হতে চান ? মা হতে কে না চায় ? আর মা হতে চাইলে আপনি যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন তা উল্লেখযোগ্য।
![]() |
| মা ও তার বাচ্চার প্রতিকী ছবি |
১.খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন
আপনি আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন । ফাইবার, মিনারেল, ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খান । ফল ,সবজি ,ডিম , মাছ খাদ্যতালিকায় রাখুন ।
২.মাদক সেবন
কেউ যদি নেশা করেন,মাদক দ্রব্য বা অ্যালকোহল জাতীয় কোন কিছু সেবন করে থাকেন অতিসত্বর পরিহার করুন । আর স্বামী করে থাকলেও ত্যাগ করতে বলবেন । কারণ এখানে পুরুষের স্পার্মে সমস্যা হতে পারে ।
৩.অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ
চা, কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্কে থাকা ক্যাফেইন গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমায় এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কফি বা চায়ের অতিরিক্ত অভ্যাস থেকে সরে আসতে হবে।
৪.অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো শুধু ওজন বাড়ায় না, বরং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
৫.অনিয়মিত ঘুম
ঘুমের অভাব শরীরের হরমোন ও প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে। মা হতে চাইলে প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম জরুরি। দেরি করে রাত জাগা বা অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত।
৬.অতিরিক্ত মানসিক চাপ
চাপ বা দুশ্চিন্তা শরীরের হরমোন ক্ষরণে ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
৭.ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
কোনো ওষুধ ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া সেবন করা বিপজ্জনক। অনেক ওষুধ প্রজনন ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে বা গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করে। তাই মা হতে চাইলে যেকোনো ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৮.মা হতে গেলে আপনি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিভিন্ন পরীক্ষা করান ।
মা হওয়ার যাত্রা কেবল একটি জৈবিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি দায়িত্বশীলতার প্রতীক। গর্ভধারণের আগে থেকেই জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা মা এবং শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। তাই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে সুস্থ জীবনধারায় অভ্যস্ত হওয়াই মায়ের প্রথম প্রস্তুতি হওয়া উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ FAQ
প্রশ্ন ১: মা হতে চাইলে ধূমপান কতদিন আগে বন্ধ করা উচিত?
উত্তর: কতদিন আগে কি ? সবাই জানে ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর । না করাই ভালো আর যদি করে থাকেন তবে গর্ভধারণের অন্তত ৩-৬ মাস আগে ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত। এতে শরীরের ক্ষতিকর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসে।
প্রশ্ন ২: মা হতে চাইলে কি একেবারেই কফি খাওয়া যাবে না?
উত্তর: সম্পূর্ণ নিষেধ নয়, তবে দিনে ১ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো।
প্রশ্ন ৩: মানসিক চাপ কমানোর জন্য কী করা উচিত?
উত্তর: নিয়মিত হালকা হাঁটা এবং নিজের কিছু কাজ করার মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো যায়।
প্রশ্ন ৪: মা হতে চাইলে কোন খাবার বেশি খাওয়া উচিত?
উত্তর: তাজা ফল, শাকসবজি, ডাল, দুধ, মাছ, বাদাম এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উচিত।
প্রশ্ন ৫: মা হতে চাইলে কি ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজন দুটোই গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা জরুরি।
