এই অভ্যাসগুলো লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর!

আমাদের শরীরের প্রতিটা অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক তেমনি লিভারও আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লিভার বা যকৃত আমাদের শরীরে জমে থাকা টক্সিক বের করে‌ দেয় । এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি যদি তার কার্যকারিতা হারায় তাহলে আমাদের শরীরে টক্সিন তো থাকবেই সেই সাথে দেখা দেবে নানান রোগ । 


     

Liver,এই অভ্যাসগুলো লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর—অ্যালকোহল, জাঙ্ক ফুড
লিভার

       


তো আজকে আমরা জানব কোন কারণে‌ লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । 




১. মল-মূত্র চেপে রাখা 

আপনি কি জানেন মল-মূত্র চেপে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর । এক্ষেত্রে আপনার লিভারে প্রভাব পড়তে পারে । দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এ কাজ করলে‌ প্রভাব নিশ্চয়ই পড়বে।




২. ঘুমে বিলম্ব ও উঠতে বিলম্ব 

যারা ঘুমোতে বিলম্ব করেন বা যারা ঘুম থেকে দেরী করে উঠেন তাদের জন্য এই সমস্যা উৎ পেতে আছে । তাই সাবধান । 






৩. আবার যারা ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় ধরে খালি পেটে থাকেন এই এই সমস্যায় ভুগবেন। 




৪. অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার , অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার লিভারের জন্য ক্ষতিকর । আমরা নিজেদের অজান্তেই এসব খেয়ে ক্ষতি করছি না তো ? একটু ভেবে দেখুন।‌




৫. মদ্যপান

অতিরিক্ত মদ্যপান স্বস্থ্যের হানি ঘটায় তা আমরা সকলেই জানি। তাছাড়া লিভারের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর । শুধু তাই নয় টক্সিন বের করার ক্ষমতাও নষ্ট করে দেয় । 




৬.নিয়মিত ব্যায়াম না করা

ব্যায়াম বা পরিশ্রম না করার পরিণতি আমরা সকলেই জানি । একজন কর্মঠ মানুষ কতক্ষনইবা কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেন ? 


•শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে—


•শরীরে চর্বি জমে


•ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ে


•মেটাবলিজম দুর্বল হয়


প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাও লিভারের জন্য উপকারী।



৭.ধূমপান করা

ধুমপান করা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর । জেনে শুনেই কিন্তু এ কাজ করে । অনেকেই মনে করেন ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে। আসলে—


•ধূমপানের টক্সিন লিভারে জমে


•লিভারের ডিটক্স ক্ষমতা কমে যায়


•লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে



৮.সংক্রমণ ও টিকা অবহেলা করা 

হেপাটাইটিস A, B, C ভাইরাস—


•লিভারে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়


•দীর্ঘমেয়াদে সিরোসিস ও ক্যান্সার ঘটাতে পারে


 •হেপাটাইটিস B টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।



প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)


১.লিভার কি নিজে নিজে ভালো হতে পারে?

হালকা ক্ষতির ক্ষেত্রে সঠিক জীবনযাপন করলে লিভার নিজে নিজে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।


২.ফ্যাটি লিভার কি পুরোপুরি ভালো হয়?

হ্যাঁ, প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।


৩.লিভার পরিষ্কার করার জন্য কি বিশেষ ডিটক্স দরকার?

না। পর্যাপ্ত পানি, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ঘুমই প্রাকৃতিক লিভার ডিটক্সের জন্য যথেষ্ট।


৪.ব্যথা না থাকলে কি লিভার সমস্যা নেই?

ভুল ধারণা। লিভার সমস্যার অনেক ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনো ব্যথা থাকে না।


৫. হারবাল ওষুধ কি লিভারের জন্য নিরাপদ?

সব সময় নয়। অনেক হারবাল ওষুধও লিভারের ক্ষতি করতে পারে।



শেষ কথা 

লিভার নীরবে কাজ করে যায়, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় বিপদ ডেকে আনে। তাই আজ থেকেই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো বাদ দিন। মনে রাখবেন—লিভার সুস্থ মানেই পুরো শরীর সুস্থ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম