মাথা ব্যথা ? সহ্য করতে পারছেন না ?

মাথা ব্যথা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যাগুলোর একটি। আবহাওয়ার পরিবর্তন বা ঠান্ডাজনিত কারণ কিংবা এলার্জি জনিত কারণ অথবা অন্য যেকোনো কারণে অনেকেই মাথা ব্যথায় ভোগেন। কম অথবা প্রচন্ড আকার ধারণ করে অনেকের এই মাথা ব্যথা। যখন প্রচন্ড আকার ধারণ করে তখন মাথার যন্ত্রণা এতটা বেশি যে কোন কিছু সহ্য করা যায় না ।


Headache,মাথা ব্যথা সহ্য করতে পারছেন না – মাথা ব্যথার কারণ ও করণীয়
মাথা ব্যথা দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি তৈরি করে—সঠিক কারণ ও সমাধান জানলে সহজেই আরাম পাওয়া সম্ভব।



মাথা ব্যথা কি?

মাথা ব্যথা হলো মাথা, স্ক্যাল্প (চুলের ত্বক), বা ঘাড়ের চারপাশে চাপ, টান বা ধুকধুক ব্যথা অনুভব করা। এটি সাধারণত দুশ্চিন্তা, ঘুমের অভাব, ডিহাইড্রেশন, বা স্নায়বিক সমস্যার কারণে হতে পারে। 

                       


মাথা ব্যথার প্রকারভেদে আছে কি ? 


হ্যাঁ ,আছে ।প্রথমত আমরা এভাবে বলতে পারি ।


মাথা ব্যথা দুই ধরনের—


Primary Headache (মূল সমস্যা নয়, ব্যথাই প্রধান সমস্যা)


Secondary Headache (অন্য কোনো রোগের উপসর্গ)



দ্বিতীয়ত , মাথা ব্যথার ধরণকে এভাবে বলতে পারি ।


১. টেনশন টাইপ হেডেক

 সাধারণ মাথা ব্যথা

লক্ষণ: মাথার দুই পাশে চাপ, ভারী লাগা, কাঁধে টান ধরে থাকা।


২. মাইগ্রেন

এটি স্নায়বিক ব্যাধি।

লক্ষণ: এক পাশে তীব্র ধুকধুক ব্যথা, আলো-শব্দে সমস্যা, বমি বমি ভাব।


৩. ক্লাস্টার হেডেক

আগুনের মতো জ্বালা ধরণের ব্যথা।

লক্ষণ: চোখের এক পাশে অথবা চারপাশে তীব্র ব্যথা, চোখ পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া।


৪. সাইনাস হেডেক

সাইনাস ইনফেকশনের কারণে চাপ অনুভূত হওয়া।

লক্ষণ: কপাল, নাকের দুই পাশ ও চোখের নিচে ব্যথা।



মাথা ব্যথা কেন হয়?

১. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কে রক্তনালীর চাপ বাড়ায়, যা মাথা ব্যথার প্রধান কারণ।


২. ঘুমের অভাব

৬–৭ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মাথা ব্যথা সহজেই দেখা দেয়।


৩. পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন)

শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হয়, ফলে মাথা ব্যথা হয়।


৪. খাবারের অনিয়ম

অনেকক্ষণ না খাওয়া, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত ক্যাফেইন মাথা ব্যথার ট্রিগার।


৫. চোখের সমস্যা

দীর্ঘসময় মোবাইল/ল্যাপটপ দেখা, চোখে পাওয়ার সমস্যা—এগুলোও মাথা ব্যথার কারণ।


৬. উচ্চ রক্তচাপ বা নিম্ন রক্তচাপ

চাপের পরিবর্তনে মাথা ধকধক করতে পারে।


৭. সাইনাস ইনফেকশন

এই ক্ষেত্রে ব্যথার সাথে নাক বন্ধ, জ্বর, মাথা ভারী লাগে।


৮. মস্তিষ্কে রক্তনালীর সমস্যা

দুর্লভ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ; হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।


মাথা ব্যথার লক্ষণ কি ? 


কপালে, মাথার এক/দুই পাশে ব্যথা


ঘাড় ও কাঁধে টান ধরার অনুভূতি


চোখের ভেতর চাপ


আলো বা শব্দে বিরক্তি


মাথা ঘোরা


বমি বমি ভাব


কাজ করতে অক্ষমতা


মনোযোগ কমে যাওয়া




মাথা ব্যথা থেকে মুক্তির উপায় কি ?



মাথা ব্যথা কমাতে অনেকে ওষুধ খেয়ে থাকেন । আমি বলব এটা করবেন না। কেননা এই মাথাব্যথা তো আর দির্ঘস্থায়ী নয় ।‌ ঘরোয়া কিছু উপায় আছে যেগুলো অবলম্বন করলে আপনি মাথা থেকে রেহাই পেতে পারেন। তাহলে কি সেই উপায়গুলো আসুন জেনে নেই। 




১. গোসল 

কোন মানুষ নেই যে তারা গোসল করেন না । আপনার মাথা ব্যথা হলে গোসল করতে পারেন । তথাপি ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধৌত করতে পারেন । এতে করে ব্যথা কিছুটা‌ হলেও হালকা হবে । 





২. চা কফি

মাথা ব্যথা কমাতে চা বা কফি পান করতে পারেন। অবশ্যই সেটা হবে কুসুম গরম। তবে চায়ে আদা বা লবঙ্গ হলে আরও ভালো হয় । 





৩. আলো কমান

অসহ্য মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে প্রখর আলোতে বসে থাকবেন না,আলো কমিয়ে দিন।‌ তাছাড়া যারা মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহার করেন তারা ওই মুহূর্তে তা ব্যবহার বন্ধ করবেন । কেননা এগুলোর আলোয় আপনার মাথা ব্যথা বাড়তে পারে। 



৪. ম্যাসাজ

মাথা ব্যথা হলে আপনি কপালে ম্যাসাজ করতে পারেন । বিশেষ করে কপালের দুই পাশের রগে। এতে‌ভালো ফল দেয় । 




৫. ঘুম 

ঘুম হলো মাথা ব্যথার সবচেয়ে বড় ঔষধ । আপনি নিরিবিলি কোন স্থানে ঘুমিয়ে পড়ুন । দেখবেন মাথা ব্যথা উধাও। তবে পরিবেশটা আপনি বেছে নিবেন বেশি গরম বা ঠান্ডা নয় । অর্থাৎ স্বাভাবিক তাপমাত্রা। 




৬.পর্যাপ্ত পানি পান করুন

দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করলে ডিহাইড্রেশনজনিত মাথা ব্যথা কমে।




৭.চোখ পরীক্ষা করান

চোখের পাওয়ার পরিবর্তন হলে মাথা ব্যথা হতে পারে।


৮. গরম বা ঠান্ডা সেঁক

টেনশন হেডেক হলে গরম সেঁক, মাইগ্রেনে ঠান্ডা সেঁক উপকারী।


৯. ব্যথানাশক ব্যবহারে সতর্কতা

ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।



কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

হঠাৎ তীব্র বজ্রপাতের মতো মাথা ব্যথা


শরীর অবশ হয়ে যাওয়া


চোখে দেখা কমে যাওয়া


২–৩ দিনেও ব্যথা না কমা


মাথায় আঘাত লাগার পর ব্যথা শুরু


বমি, বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া


এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।



প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

১. প্রতিদিন মাথা ব্যথা হলে কি এটি গুরুতর রোগের লক্ষণ?

প্রতিদিন মাথা ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক। স্ট্রেস, কম ঘুম, চোখের সমস্যা—এগুলো প্রধান কারণ। তবে সপ্তাহে ৪–৫ বার ব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


২. খাবার কি মাথা ব্যথা বাড়াতে পারে?

হ্যাঁ। অতিরিক্ত চকলেট, প্রসেসড ফুড, নুডলস, ক্যাফেইন, কোল্ড ড্রিঙ্ক—এসব খাবার অনেকের মাথা ব্যথা ট্রিগার করে।


৩. মোবাইল ব্যবহার কি মাথা ব্যথার কারণ?

দীর্ঘসময় স্ক্রিন দেখলে চোখে চাপ পড়ে, ঘাড়ে ব্যথা হয়, ফলে মাথা ব্যথা দেখা দেয়।


৪. ঘরোয়া উপায়ে মাথা ব্যথা কমানোর উপায় কী?

আদা চা, পুদিনা চা, ঠান্ডা সেঁক, মাথা হালকা মালিশ—এসব দ্রুত আরাম দেয়।


৫. মাইগ্রেন এবং সাধারণ মাথা ব্যথার পার্থক্য কী?

মাইগ্রেনে সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্র ধুকধুক ব্যথা হয়, আলো-শব্দে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব থাকে।সাধারণ মাথা ব্যথা সাধারণত চাপ ও টান ধরণের হয়।


৬. পানি কম খেলে কি মাথা ব্যথা হয়?

অবশ্যই। ডিহাইড্রেশন মাথা ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ।


৭. মাথা ব্যথার জন্য কোন পরীক্ষা লাগতে পারে?

বারবার তীব্র ব্যথা হলে ডাক্তার—


চোখ পরীক্ষা


রক্তচাপ


ব্লাড টেস্ট


MRI/CT scan

পরামর্শ দিতে পারেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম