আপনার কি গলা ব্যথা ? সেই সাথে সাথে খুসখুসে ভাব ? ভেবে দেখেছেন কি কেন হচ্ছে ? সবাই জানেন ঠান্ডার কারণে । তাছাড়া বাতাসে থাকা ধূলো বালি হতে পারে গলা ব্যথার কারণ । ঠান্ডা,গলা ব্যথা , খুসখুসে ভাবের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায় ।
![]() |
| গলা ব্যথা ও খুসখুসে ভাব কমাতে ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক কিছু কার্যকর উপায় |
এখন যে প্রচন্ড গরম । এই গরমে অনেকেই ঠান্ডায় ভুগতেছেন। আমি নিজেও ঠান্ডায় ভুগছি । আর এই অবস্থায় এই পোস্টটা লিখতে বসছি । আর এই ঠান্ডা থেকে গলা ব্যাথা , খুসখুসে ভাব হয়ে থাকে । তাই অন্তত ঠান্ডাকে বাড়তে দেয়া যাবে না । কোন কোন উপায় অবলম্বন করলে আপনি গলা ব্যথা ও খুসখুসে ভাব হতে মুক্তি পেতে পারেন। আসুন তাই নিয়ে আলোচনা করা যাক । প্রথমেই দেখব কারণ কি ?
গলা ব্যথা ও খুসখুসে ভাব কেন হয়?
গলা ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
সাধারণ সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা অন্যান্য ভাইরাস আক্রমণের প্রথম লক্ষণই হচ্ছে গলা ব্যথা ও খুসখুসে ভাব।
২. ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন
স্ট্রেপথ্রোট বা টনসিলাইটিসের মতো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে তীব্র গলা ব্যথা হয়। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর বা গিলতে সমস্যা দেখা দেয়।
৩. অ্যালার্জি
ধুলা, পরাগ (pollen), ধোঁয়া যার কারণে গলা শুকিয়ে যাওয়া বা খুসখুসে ভাব হতে পারে।
৪. শুকনো বাতাস
শীতকালে ঘরের ভেতরের বাতাস শুকনো হয়ে যায়, যা গলা খুসখুসে করে এবং কাশি বাড়ায়।
৫. অতিরিক্ত উচ্চস্বরে কথা বলা
দীর্ঘক্ষণ চিৎকার বা উচ্চস্বরে কথা বললে ভোকাল কর্ডে চাপ পড়ে, ফলে গলা ব্যথা বা রুক্ষ অনুভূতি হয়।
মুক্তির উপায় কি ?
১. লবণ পানি
গলা ব্যথা কমানোর এক ঘরোয়া টোটকা হল এই লবণ পানি । কিছু পানি নিন । তাতে কিছু লবণ দিয়ে কুসুম গরম করুন । তারপর গড়গড়া করুন। এটা দিনে অন্তত তিনবার করবেন ।
২. আদা চা
আপনি চা খাওয়ার অভ্যাসকে না বললেও অন্তত এই অবস্থায় আপনার জন্য আদার চা উপকারী। এটা গলা ব্যথা ও খুসখুসে ভাব সারানোয় কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
৩. আদা
এখন শুধু আদা । আদার সাথে কিছু লবণ যুক্ত করে খেলে উপকার পাবেন।
৪. হলুদ দুধ
হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অনেক প্রদাহ নিরাময়ে উপযোগী । তাই আপনি দুধ গরম করে তার সাথে কাঁচা হলুদ খেতে পারেন । এটা অবশ্য অনেকে খেতে চাইবে না । কিন্তু আপনি চেষ্টা করে দেখতেতো পারেন।
৫.গরম ভাপ নেওয়া
গরম পানির ভাপ (Steam inhalation) গলা আর্দ্র করে এবং খুসখুসে ভাব কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে নাক বন্ধ থাকলে খুব ভালো কাজ করে।
৬.ঠান্ডা-গরম খাবার এড়িয়ে চলুন
একইসঙ্গে ঠান্ডা পানি ও খুব গরম খাবার খাওয়া গলার জন্য ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত আইসক্রিম, সফট ড্রিংক, ফ্রিজের পানি এড়িয়ে চলুন।
৭.ধুলোবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন
অ্যালার্জি বা ধুলার কারণে যাদের গলা খুসখুসে হয়, তারা বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
৮. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
ভাইরাসজনিত গলা ব্যথা দ্রুত সারাতে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
গলা ব্যথা ৪–৫ দিনের বেশি স্থায়ী হলে
জ্বর ১০১°F এর বেশি হলে
গলা ফুলে যাওয়া বা পুঁজ দেখা গেলে
গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
কণ্ঠ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা থাকলে
শিশুদের ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা বা পানি পান না করতে চাইলে
গলা ব্যথা ও খুসখুসে ভাব প্রতিরোধের উপায়
হাত পরিষ্কার রাখুন
অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন
ঠান্ডা খাবার বা বরফজাত খাবার সীমিত করুন
আবহাওয়া পরিবর্তন হলে গরম পানি পান বাড়ান
দীর্ঘক্ষণ AC–তে থাকবেন না
ধূমপান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. খালি গলায় বেশি কথা বললে কি গলা ব্যথা বাড়ে?
জি হ্যাঁ। খালি গলায় বা শুষ্ক গলায় কথা বললে ভোকাল কর্ডে চাপ পড়ে, যা গলা ব্যথা বাড়ায়।
২. রাতে ঘুমানোর সময় গলা বেশি খুসখুসে লাগে কেন?
ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং ঘরের শুকনো বাতাসের কারণে গলা বেশি শুষ্ক হয়ে খুসখুসে লাগে।
৩. কোন খাবারগুলো গলা ব্যথা বাড়িয়ে দেয়?
চকলেট, খুব ঠান্ডা পানীয়, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত টক এবং মসলা যুক্ত খাবার গলা ব্যথা বাড়াতে পারে।
৪. লেবু-গরম পানি কি সব ধরনের গলা ব্যথায় ভালো?
ভাইরাসজনিত গলা ব্যথায় লেবু-গরম পানি বেশ উপকারী হলেও অ্যাসিড রিফ্লাক্সে আক্রান্তদের জন্য এটি ব্যথা বাড়াতে পারে।
৫. গলা ব্যথা কি সবসময় সংক্রমণের লক্ষণ?
না। অনেক সময় অ্যালার্জি, ধুলো, শুষ্ক বাতাস বা কণ্ঠের অতিরিক্ত ব্যবহারেও গলা ব্যথা হতে পারে।
৬. আদা-মধু কি তৎক্ষণাৎ আরাম দেয়?
হ্যাঁ, আদা ও মধুর মিশ্রণ গলার জ্বালা কমিয়ে দ্রুত আরাম দেয় কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগে।
