ঠান্ডা লাগার লক্ষণ দেখা দিলে যা করবেন, যা করবেন না।

শীতকাল আসলেই কিংবা হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে অনেকেই ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে পড়েন।আপনি কি কোন কারণে ঠান্ডায় আক্রান্ত হন ? সহ্য করতে পরেন‌ না ? অনেক সময় মাঝে মধ্যে কিছু ধুলো বালি নাকে গেলে অথবা পাউডার জাতীয় কিছু নাকে গেলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে । এরকম অনেকেরই হয়। আপনি বুঝতেছেন আপনার ঠান্ডা লাগবে । এমতাবস্থায় কি করবেন আর কি পরিহার করবেন । 


Cold, ঠান্ডা লাগার লক্ষণ দেখা দিলে করণীয় ও যা এড়ানো উচিত
ঠান্ডায় একজন লোক নাক ধরে আছেন ।




ঠান্ডা লাগার কি কোন লক্ষণ আছে ?


ঠান্ডা লাগার সাধারণ লক্ষণ

ঠান্ডা লাগলে শরীরে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দেয়। সেগুলো হলো –


নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া


গলা ব্যথা বা গলা শুকিয়ে আসা


হাঁচি, কাশি ও সর্দি


শরীরে দুর্বলতা বা ক্লান্তি


সামান্য জ্বর


মাথা ব্যথা বা চোখে ভারীভাব


শ্বাসকষ্ট (কিছু ক্ষেত্রে)


এই উপসর্গগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে সময় বেশি লাগতে পারে।


ঠান্ডা লাগলে সচরাচর আমরা কি করি ? ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিছুতো করি তাই না । এবার আসুন জেনে নেই । প্রথমে জানাবো কি করবেন ।‌




যা করবেন:

                 


১. নাকে সর্দি জমেছে ? ফেলে দিন । এসময় আপনার নাকে জ্বালাপোড়া করে ? ধৈর্য ধরুন । আর যদি কফ জমে তাহলে না গিলে ফেলে দিন । আর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।‌



২.গরম খাবার খান

 ঠান্ডা লাগার লক্ষণ দেখা দিলে গরম খাবার খান । আর গরম হাওয়া নিতে পারলে আরো ভালো । সেই সাথে গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করুন ।‌



৩.পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

ঠান্ডা লাগার সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।



৪.উষ্ণ পানি পান করুন

গরম পানি বা হালকা গরম চা পান করলে গলা ব্যথা কমে এবং ঠান্ডা প্রশমিত হয়। লেবু-মধু মিশ্রিত কুসুম গরম পানি অনেক কার্যকর।



৫.হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করুন

অতিরিক্ত ক্লান্ত না হলে হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং করলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং শরীর দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।



৩.ডাক্তারের পরামর্শ 

অবশ্যই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।‌ অনেকেরই এই ঠান্ডা ভালো‌ হতে ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগে । তাই পরামর্শ নিন




যা করবেন না :




১. ঠান্ডা লাগার লক্ষণ শুরু ‌হলে কাজ করতে বা বাইরে কোথাও ঘুরতে বের হবেন না । কেননা ফ্লু ভাইরাস খুবই সংক্রামক ।‌ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।‌




২. আপনার যদি শরীর খারাপ লাগে তখন যা ইচ্ছে তা আর খাওয়া শুরু করবেন না ।‌




৩. হজমে সমস্যা হয় এমন খাবার খাবেন না । এমনও অনেক খাবার রয়েছে যা হজমে সমস্যা করে । এসব খাবার পরিহার করতে হবে ।‌ 



৪.ঠান্ডা পানি ও ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন

আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংক বা ফ্রিজের পানি ঠান্ডা লাগা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।



৫.ধুলোবালি ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন

ধুলো, ধোঁয়া ও ধূমপান শ্বাসনালীকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি।



৬.ভেজা কাপড়ে বসে থাকবেন না

ভেজা বা ঠান্ডা কাপড় শরীরে রাখলে সর্দি-কাশি বেড়ে যেতে পারে। সবসময় শুকনো ও উষ্ণ পোশাক পরতে হবে।





৭. অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘরে থাকবেন না

এয়ার কন্ডিশনার বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে নাক-গলা আরও বেশি শুকিয়ে যায়, ফলে সর্দি বেড়ে যায়।


ঠান্ডা লাগা সাধারণ একটি অসুস্থতা হলেও অবহেলা করলে এটি বড় ধরনের জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তাই ঠান্ডা লাগার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সঠিক যত্ন নিতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, উষ্ণ পানীয় গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকলেই দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।



গুরুত্বপূর্ণ কিছু FAQ

প্রশ্ন ১: ঠান্ডা লাগলে কি সবসময় ডাক্তার দেখানো জরুরি?

না, সাধারণ ঠান্ডা কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন না কমলে বা শ্বাসকষ্ট, উচ্চ জ্বর দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


প্রশ্ন ২: ঠান্ডা লাগার সময় দুধ খাওয়া কি উচিত?

অনেকে মনে করেন দুধ খেলে সর্দি বাড়ে, কিন্তু আসলে তা নয়। গরম দুধ শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং শক্তি জোগায়।



প্রশ্ন ৩: ঠান্ডা লাগার সময় ব্যায়াম করা কি ক্ষতিকর?

হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।


প্রশ্ন ৪: ঠান্ডা লাগলে কি গরম পানিতে গোসল করা উচিত?

হ্যাঁ, গরম পানিতে গোসল করলে শরীর আরাম পায় এবং নাক বন্ধ অবস্থার কিছুটা উপশম হয়।


প্রশ্ন ৫: ঠান্ডা লাগার সময় কি শুধু শীতে হয়?

না, ঠান্ডা শুধু শীতে নয়, বর্ষাকাল বা আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনেও হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম