হঠাৎ বসন্ত রোগ? ছবি দেখে লক্ষণ বুঝুন—জানুন চিকিৎসা ও করণীয়

বসন্ত রোগকে কে না চিনে ? বসন্ত রোগ একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ । শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সেই হতে পারে। একসময় বসন্ত রোগকে খুব ভয়ঙ্কর মনে করা হতো, তবে বর্তমানে টিকা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে রোগ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয়েছে। তবুও সঠিক তথ্য জানা না থাকলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।



Pox virus,বসন্ত রোগের দাগের ক্লোজ-আপ ইমেজ
বসন্ত রোগের ফুসকুড়ি থাকা রোগীর ছবি





এই লেখায় বসন্ত রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রকারভেদ, প্রতিরোধ এবং যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হলো—যা পড়ে আপনি সম্পূর্ণ ধারণা পাবেন।



বসন্ত রোগ(Pox) কী?

বসন্ত রোগ হলো এক ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ, যেখানে শরীরে ছোট ছোট পানিভর্তি ফোস্কা বা দানা (rash) দেখা যায়। ফোস্কাগুলো প্রথমে লাল ছোট দাগ হিসেবে শুরু হয়, পরে পানিভরা ফোস্কা তৈরি হয় এবং কয়েকদিন পরে খোসা পড়ে সেরে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগটি ৭–১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।



বসন্ত রোগ কত প্রকার ? 

 বসন্ত রোগ সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয় :

১. জলবসন্ত ও

২. গুটিবসন্ত 


এছাড়াও রয়েছে বাঁদড়বসন্ত বা এমপক্স । এই তিন ধরনের রোগ নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত বিবরণ আসবে । 


বসন্ত রোগ কীভাবে ছড়ায়?

বসন্ত রোগ অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তি—


হাঁচি-কাশির মাধ্যমে

বাতাসে ছড়ানো ভাইরাসের মাধ্যমে

ফোস্কার তরল স্পর্শ করলে

একই বাসনপত্র, তোয়ালে বা বিছানা ব্যবহার করলে


অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে। সংক্রমণ সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে মেলামেশার ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।




বসন্ত রোগের লক্ষণ (Symptoms) কি ?


বসন্ত রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলো—


১. জ্বর

মাঝারি বা উচ্চমাত্রার জ্বর প্রথম ১–২ দিন দেখা যায়।


২. শরীরে লাল দানা

শরীরের যেকোনো অংশে প্রথমে ছোট লাল দাগ দেখা দেয়।


৩. পানিভর্তি ফোস্কা

দাগগুলো পরে পানিভরা ফোস্কায় পরিণত হয়, যা চুলকাতে পারে।


৪. মাথাব্যথা ও দুর্বলতা

অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা, ক্লান্তি ও শরীর ব্যথা হতে পারে।


৫. ক্ষুধামন্দা

জ্বর ও অসুস্থতার কারণে ক্ষুধা কমে যেতে পারে।



বসন্ত রোগের চিকিৎসা কি ? 


বসন্ত রোগে সাধারণত বিশেষ কোনো ওষুধ প্রয়োজন হয় না। তবে কিছু যত্ন রোগ দ্রুত সারতে সাহায্য করে—


✔ বিশ্রাম

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে শরীর দ্রুত সুস্থ হয়।


✔ হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল

শরীর পরিষ্কার রাখলে চুলকানি ও সংক্রমণ কমে।


✔ চুলকানি কমানোর লোশন

চিকিৎসক ধরন অনুযায়ী লোশন দেবেন

যা চুলকানি কমাতে সাহায্য করবে।


✔ পানি ও তরল খাবার

ডিহাইড্রেশন এড়াতে বেশি পরিমাণে পানি, জুস, স্যুপ খেতে হবে।


✔ জ্বর কমানোর ওষুধ

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে। বাচ্চাদের বেলায় অবশ্যই ডাক্তার‌ দেখাতে হবে ।


✔ ফোস্কা খুঁটবেন না

ফোস্কা খোঁচালে দাগ থেকে যেতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে।



বসন্ত রোগ এর প্রতিরোধ 


আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা


ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার না করা


হাত ধোয়া


ঘরোয়া পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা



বসন্ত রোগ কবে বিপজ্জনক হতে পারে?

যদি নিচের লক্ষণ দেখা যায় যেটা বিপজ্জনক হতে পারে তখন দ্রুত চিকিৎসককে দেখানো জরুরি—


খুব বেশি জ্বর


শ্বাসকষ্ট


অত্যধিক ফোস্কা


চোখে সংক্রমণ


শিশুর ক্ষেত্রে পানি না খেলে


অসাড়তা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া





জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন( FAQ)

১. বসন্ত রোগ কতদিন থাকে?

সাধারণত ৭–১০ দিনের মধ্যে রোগ পুরোপুরি সেরে যায়। 


২. বসন্ত রোগ কি আবার হতে পারে?

বেশিরভাগ মানুষের হয় না। তবে খুব কম ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে হতে পারে।


৩. বসন্ত রোগে গোসল করা যায় কি?

হ্যাঁ, হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করা যায়। এটি চুলকানি কমায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।


৪. বসন্ত রোগে দাগ পড়ে যায় কি?

সাধারণত পড়ে না ।ফোস্কা খোঁচালে দাগ পড়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই ফোস্কা না খোঁচানোই ভালো। 


৫. বসন্ত রোগে কোন খাবার খাবেন?

পানিযুক্ত খাবার, স্যুপ, ও ভিটামিন-সমৃদ্ধ ফল খাওয়া ভালো। খুব তেল-মশলা বা ভাজাপোড়া এড়ানো উচিত।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম