এমন অনেকেই আছেন যারা ভাবেন যে তাদের মাথায় কখনো টাক পড়বে কি না ।আবার এমনও অনেকেই আছেন যাদের মাথার সম্মুখভাগের চুল ঝড়ে যাচ্ছে - এই নিয়ে তারা চিন্তিত।আবার অনেকে আছেন যারা গোসলের পর মাথা যখন চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে থাকেন তখন কিছু না কিছু চুল উঠে আসে । তারা ভাবেন আমার মনে হয় টাক হতে চলেছে । কিন্তু আসলে কি তাই ? আজকের এই লেখায় আমি আপনাদের জানাবো কি কি লক্ষণ দেখে বুঝবেন যে আপনার মাথার চুল থাকবে না ঝড়বে । তাহলে আসুন জেনে নেই-
![]() |
| টাক পড়ার ঝুঁকি বাড়ার আগে যেসব লক্ষণ দেখা যায় |
১. থাইরয়েড সমস্যা
আপনারা যারা থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছেন অর্থাৎ হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগে থাকেন তাহলে আপনার টাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
২. শারীরিক সমস্যা
আপনি কি প্রায়ই সময় অসুস্থ থাকেন ? কারণ এক্ষেত্রে মাথার টিস্যুগুলো নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে ।তাই এ ব্যাপারটা খেয়াল করুন
৩.চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া
আপনি যদি দেখেন যে আপনার মাথার সম্মুখ ভাগের চুল পড়ে যাচ্ছে তাহলে ধরে নেন আপনি টাক হচ্ছেন ।
আবার আপনার চুলের ঘনত্ব যদি দেখেন কমে যাচ্ছে তাহলে টাক হতে পারে । আমি সম্ভাবণার কথা বলছি । তাই চুলের ঘনত্ব পরীক্ষা করে দেখতে পারেন ।
৪.চুলের রেখা (Hairline) পেছনে সরে যাওয়া
মাথার সামনের দিকের চুলের রেখা ধীরে ধীরে পেছনের দিকে চলে গেলে এটি পুরুষদের মধ্যে সাধারণ একধরনের টাক পড়ার লক্ষণ। একে বলে Male Pattern Baldness বা Androgenetic Alopecia।
৫.চুল ভাঙা ও ঝরে পড়া বৃদ্ধি পাওয়া
প্রতিদিন গড়ে ৫০-১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি চুল ঝরে গেলে বা চুল গোছা করে পড়ে যেতে শুরু করলে এটি টাক পড়ার পূর্বাভাস হতে পারে।
৬.চুলের শিকড় দুর্বল লাগা
চুল টানলে সহজেই উঠে এলে বুঝবেন শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। এটি পুষ্টিহীনতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা স্ট্রেসজনিত কারণে হতে পারে।
৭.অতিরিক্ত খুশকি
আপনার মাথায় কি খুশকি আছে ? না থাকলে বেঁচে গেলেন ।আর যদি থেকে থাকে তাহলে টাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি ।কেননা খুশকির কারণে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়।
৮. চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাওয়া
চুল পড়ছে কিন্তু নতুন চুল গজাচ্ছে না – এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক সংকেত। Hair Growth Cycle থেমে গেলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
৯. রক্তশূন্যতা সমস্যা
রক্তশূন্যতায় যারা ভোগেন তাদের জন্য দুঃখের খবর । কেননা তাদের অচিরেই টাক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল
কেননা রক্ত থাকে হিমোগ্লোবিন। আর যদি রক্তই কম থাকে তাহলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও কম থাকবে । আর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে চুলের গোড়ায় পুষ্টি কম পায় । আর এজন্যই চুল পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ভবিষ্যতে টাক পড়বে কি না – ঘরোয়া টেস্ট
Hair Pull Test: হালকা করে এক মুঠো চুল টানুন। যদি একবারে ৫-৬টির বেশি চুল উঠে আসে, তাহলে বুঝবেন চুল দুর্বল।
Mirror Check: আলোতে বসে মাথার সামনের ও মাঝখানের অংশে ঘনত্ব কমেছে কি না দেখুন।
Old Photos Compare: আগের ছবি দেখে তুলনা করুন – চুলের রেখা পেছনে যাচ্ছে কি না।
কখন চিকিৎসা শুরু করবেন
প্রতিদিন গড়ের চেয়ে বেশি চুল পড়ছে
স্ক্যাল্পের জায়গা দেখা যাচ্ছে
নতুন চুল আর গজাচ্ছে না
পরিবারের কারও টাক পড়ার ইতিহাস আছে
এই লক্ষণগুলো একসাথে দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাথায় টাক পড়া অনেক সময় হঠাৎ ঘটে না — এটি ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং শরীর আগেই সংকেত দেয়। যদি আপনি চুল পাতলা হওয়া, hairline পিছিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল পড়া লক্ষ্য করেন, তাহলে দেরি না করে পুষ্টিকর খাবার, সঠিক যত্ন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা শুরু করুন।
সময়মতো পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে টাক পড়া রোধ করা সম্ভব — আর চুল হারানোর ভয় থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. টাক পড়া কি শুধু পুরুষদের হয়?
না। নারীদের মধ্যেও হরমোন, পুষ্টিহীনতা বা প্রসব-পরবর্তী সময়ে চুল পড়া দেখা যায়।
২. রাতে চুলে তেল রেখে ঘুমানো কি ক্ষতিকর?
যদি তেল ভারী হয় বা স্ক্যাল্প তেল শোষণ না করে, তবে ছিদ্র বন্ধ হয়ে চুল পড়া বাড়তে পারে। তাই ১–২ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলা ভালো।
৩. বংশগত টাক রোধ করা কি সম্ভব?
সম্পূর্ণ রোধ করা না গেলেও আগেভাগে যত্ন নিলে প্রক্রিয়াটি অনেক ধীর করা সম্ভব।
৪. বারবার টুপি বা হেলমেট পরলে কি টাক পড়ে?
এটি সরাসরি কারণ নয়। টুপি বা হেলমেট পড়ার সাথে কোন সম্পর্ক নেই ।তবে যদি স্ক্যাল্প ঘাম ও ধুলো জমে থাকে, তাহলে Hair Follicle বন্ধ হয়ে চুল পড়তে পারে।
৫. গরম পানিতে চুল ধুলে কি টাক পড়ে?
হ্যাঁ, অতিরিক্ত গরম পানি স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়, ফলে চুল শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে যায়।
৬. ঘুমের অভাব কি টাক পড়ায় প্রভাব ফেলে?
অবশ্যই। ঘুমের সময় শরীর কোষ মেরামত করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চুলের বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হয়।
