ইউরিন ইনফেকশনের মূলত প্রস্রাবজনিত সমস্যাকে বুঝায় । এই ইনফেকশন যদি একবার হয় তাহলে একবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না । আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো পুরুষের ইউরিন ইনফেকশন সংক্রান্ত। ইউরিন ইনফেকশন পুরুষ, মহিলা সবার ক্ষেত্রেই ,হতে পারে। তবে সেটা মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায় ।
![]() |
| পুরুষের ইউরিন ইনফেকশন এর সাধারণ লক্ষণ |
কখন বুঝবেন যে আপনার ইউরিন ইনফেকশন হতে যাচ্ছে ?
প্রস্রাব বাইরে আসার রাস্তায় যদি সমস্যা থাকে তাহলে আপনি ধরে নিতে পারেন । ইউরিন ইনফেকশনকে UTI বলা হয় ।
পুরুষের ইউরিন ইনফেকশন এর লক্ষণ কি ?
লক্ষণ : যে লক্ষণগুলো দেখা মাত্র আপনি বুঝতে পারবেন যে ইউরিন ইনফেকশন। আর তা হল :-
১. তল পেটে ব্যথা
২. প্রস্রাব করার সময় রক্ত পড়া
৩. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
৪. আপনি প্রস্রাব করছেন হঠাৎ তার বেগ বেড়ে গেল
৫.প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া ।
লক্ষণগুলো হালকা থেকে শুরু করে গুরুতর পর্যায় পর্যন্ত হতে পারে। তাই প্রথমদিকে চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পুরুষের ইউরিন ইনফেকশনের কারণ কি ?
কোন কোন কারণে পুরুষের ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে:-
১.প্রস্টেট গ্লান্ড ফুলে যাওয়া
প্রস্টেট গ্লান্ড যখন ফুলে উঠে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে আর তখন প্রস্রাব আটকে থাকে । ফলে ব্যাকটেরিয়া সেখানে পাড়ি জমায় । এমনকি জীবাণুর সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ইনফেকশনের জন্ম দেয় ।
২.অপর্যাপ্ত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা
যৌনাঙ্গ পরিষ্কার না রাখা, অপরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার বা অতিরিক্ত ঘাম থেকে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় যা ইউরিন ইনফেকশন ঘটাতে পারে।
৩.যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ
অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক বা সংক্রমিত সঙ্গীর সঙ্গে যৌন মিলনের ফলে ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে।
৪.কিডনিতে পাথর বা মূত্রনালী সংকীর্ণতা
পাথর বা ইউরিন ব্লকেজের কারণে ইউরিন জমে থেকে সংক্রমণ হতে পারে।
৫.ক্যাথেটার ব্যবহারের কারণে
দীর্ঘ সময় ইউরিন ক্যাথেটার ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া সহজে মূত্রনালীতে প্রবেশ করে।
পুরুষের ইউরিন ইনফেকশন হলে কি করবেন ?
এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া ভাবে আপনি যা করতে পারেন ।
১.অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, একে অবহেলায় ছেড়ে দিবেন না । চিকিৎসক ব্যাকটেরিয়ার ধরন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেন।
সতর্কতা: নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া একদমই ঠিক নয়। সঠিক পরীক্ষা (Urine Culture Test) করে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ নিতে হবে।
২.পর্যাপ্ত পানি পান করা
প্রতিদিন অন্তত ২.৫–৩ লিটার পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া বের করতে সাহায্য করে।
৩ মূত্র ধরে না রাখা
বেগ পেলেই মূত্র ত্যাগ করুন। দীর্ঘ সময় ধরে রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. যৌন সম্পর্কের পর প্রস্রাব করা
এটি ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে, ফলে ইনফেকশনের ঝুঁকি কমে।
৫. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
প্রতিদিন যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখুন এবং শুকনো ও পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
৬.ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
এসব খাবার ইউরিনারি ট্র্যাক্টে জ্বালা বাড়ায়।
৭. জটিল ক্ষেত্রে চিকিৎসা
যদি সংক্রমণ কিডনি বা প্রোস্টেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
৮. খাবারে পরিবর্তন আনা
খাবারে পরিবর্তন আনুন। পানি জাতীয় ফলমূল খান বিশেষ করে,সেই সাথে তরমুজ এবং শসার বীজ খেতে পারেন । কারণ এগুলো ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. পুরুষদের ইউরিন ইনফেকশন কি যৌনরোগ (STD)?
না, এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। তবে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হতে পারে।
২. ইউরিন ইনফেকশন কি শুক্রাণু বা প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে?
দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ প্রোস্টেট ও টেস্টিসে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে শুক্রাণুর গুণমান কমে যেতে পারে।
৩. ইউরিন ইনফেকশন হলে যৌন সম্পর্ক করা কি নিরাপদ?
সংক্রমণের সময় যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে এবং সংক্রমণ বাড়তে পারে।
৪. ইউরিন ইনফেকশন বারবার হলে কী করবেন?
বারবার ইনফেকশন হলে অবশ্যই ইউরিন কালচার টেস্ট করে কারণ নির্ণয় করতে হবে — যেমন প্রোস্টেট সমস্যা, কিডনি পাথর বা ডায়াবেটিস ইত্যাদি।
